ছোটবেলায় বিটিভিতে সিনেমা দেখতাম।
আলমগীর শাবানাদের ভালবাসা হতো, তারপর তারা ঘুরে ঘুরে নাচতো। আমাদের গ্রামের পরিবারগুলোতে তখন ভালবাসা ছিল না। এমনকি পুরো অঞ্চলেও ভালবাসার লেশমাত্র ছিল না। কারণ কোন দম্পতি ঘুরে ঘুরে নাচতো না।
ভালবাসলে ঘুরে ঘুরে নাচতে হয়।
আমাদের পরিবারগুলো অনেক বড় ছিল। আমাদের দাদাদাদীরা, চাচাফুফুরা ছিল। আমরা সবাই একসাথে থাকতাম।
আমাদের প্রাথমিক পড়াশোনার জন্য টিচারও লাগতো না। দাদার কাছ থেকেই বর্ণমালার পরিচয় পেয়ে যেতাম।
আমাদের গ্রামগুলোর মায়েরা আমাদের অসূস্থতায় রাত জাগতো, আমাদের পিতারা হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রমে আমাদের আহার যোগাতো।
আমাদের অবসরে বেড়ানোর জায়গা ছিল নানার বাড়ি, খালার বাড়ি। আমরা বাপ মাকে প্রিয় মা, প্রিয় বাবা বলে জীবনেও জড়িয়ে ধরিনি। অদ্ভূত ভয়ার্ত শ্রদ্ধায় কাছে যেতেই ভয় পেতাম, এখনো পাই।
ভালবাসতে হলে কক্সবাজার আর বান্দরবন বেড়াতে যেতে হয়, গীত গাইতে গাইতে একে অপরের দিকে তাকিয়ে, বাচ্চাদের কোলে নিয়ে, বুড়োদের সালাম করে ভালবাসার কথা বলতে হয়। সেই ভালবাসার অস্তিত্ব আমাদের মাঝে ছিল না। কারণ ভালবাসলে ঘুরে ঘুরে নাচতে হয়।
আমাদের ছেলেমেয়ে বড় হলে বিয়ের ব্যবস্থা হয়। অনেক বড় আয়োজনে দুনিয়াকে জানানো হয় তারা স্বামী স্ত্রী। লোকজনকে ভরপেট খাইয়ে ঘোষণা করা হয় আজ থেকে ওরা একত্রে থাকবে, একে অপরের মাঝে দায়দায়িত্বের সৃষ্টি হবে। তবে তাদের প্রাইভেট লাইফ গোপনই থাকে। কিন্তু তাদের মাঝে ভালবাসা দেখা যায় না।
ভালবাসতে হলে বাপ মায়ের অগোচরে ঘর থেকে বের হতে হয়। দায়দায়িত্বের বালাই নেই। জনসম্মুখে এখানে সেখানে, পার্কে, রেস্তোরায়, হোটেলে আদরযত্ন করতে হয়। ভালবাসতে হলে ঘুরে ঘুরে নাচতে হয়।
তবে সুখের বিষয় হলো, এখন শহর থেকে গ্রামেও ভালবাসা ছড়িয়ে পড়েছে। দায়দায়িত্বের বোঝা ঝেড়ে ফেলে ছেলেমেয়েরা ঘর থেকে বের হচ্ছে।
আকাশ বাতাস স্বাক্ষী রেখে গোপন বিয়ে হয়ে প্রকাশ্যে আদরযত্ন চলছে। আগের দিনের বোকাদের মতো বিয়ে প্রকাশ্যে আদরযত্ন গোপনে হয় না।
পরিবারগুলোতে দাদাদাদী, চাচাফুফুদের ঝামেলা ক্রমশ কমে যাচ্ছে। এখন সব ছোট ছোট পরিবার হয়ে যাচ্ছে।
তারা এখন অবসরে আত্মীয় স্বজনের খোঁজ নেয়ার ঝামেলায় না গিয়ে সাগরে, জঙ্গলে যাচ্ছে।
অবশেষে তারা বুঝতে পেরেছে কি করে ভালবাসতে হয়।
তারা বুঝে ফেলেছে ভালবাসলে ঘুরে ঘুরে নাচতে হয়।
No comments:
Post a Comment